দিক নির্ণয়ে পিঁপড়ার ক্ষমতা অভিনব (blogkori.tk)

February 09, 2017

দিক নির্ণয়ে পিঁপড়ার ক্ষমতা অভিনব


সূর্যের অবস্থানকে চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে ছকে ফেলে পথ চলে পিঁপড়া। দেহের অবস্থান বদলালেও দিক হারায় না ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি। তাদের এই দিক নির্ণয়ের ক্ষমতা দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে, সম্প্রতি এক গবেষণায় জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। আর এই পদ্ধতি রোবোটে ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। 

পিঁপড়ার একটি অভিনব ক্ষমতার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর তা হলো প্রাণীটির দিক নির্ণয়ের ক্ষমতা। গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ারা চলাফেরায় দিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তাদের দেহভঙ্গীর ওপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ তারা যে কোনো দিকেই মুখ করে থাকুক না কেন, ঠিকই নির্দিষ্ট দিক অনুসরণ করে চলতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকাশে সূর্যের অবস্থানকে পিঁপড়া তার আশেপাশের দৃষ্টিসীমার পরিবেশের সঙ্গে একটি ছকে ফেলে। আর ওই ছক অনুসরণ করেই নির্ধারিত হয় তার পথচলা। এই পদ্ধতি ব্যবহার করার কারণে কোনো পিঁপড়া পেছন ফিরে চললেও দিকভ্রান্ত হয় না। এমনকী প্রাণীটির দেহ ঘুরতে থাকলেও গন্তব্যের দিক হারায় না সে।

গবেষক এন্টোয়েন ওয়াইসট্র্যাচ বলেন যে, "গবেষণায় আমরা দেখেছি পিঁপড়া, তাদের শারীরিক অবস্থান যে দিকেই থাকুক না কেনো, চলাচলের গতিপথ তা থেকে আলাদা করে ফেলতে পারে। অর্থাৎ শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে গতিপথ বদল করার ঘটনা তাদের ক্ষেত্রে ঘটে না।"

পিঁপড়ারা দল বেঁধে এক ঝাঁক হয়ে চলাফেরা করে। খাদ্যের সন্ধানে ছুঁটতে হয় তাদের। তারপর সেই খাবার বয়ে আনতে হয় আবাসস্থলে। অনেক সময় পেছন ফিরে খাবার টেনে আনতে হয় লম্বা পথ। কিন্তু তারা পথ চিনতে ভুল করে না।

গবেষক এন্টোয়েন ওয়াইসট্র্যাচ আরও বলেন যে,"পিঁপড়ার মস্তিষ্ক খুবই ছোট। একটা পিনের মাথার সমান। তবে সেটা খুবই স্পর্শকাতর। তারা এমনভাবে গতিপথ নির্ধারণ করে যা আমরা চিন্তাও করতে পারি না। ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি ও পরিবেশেও তারা পরিপার্শ্বের সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক মতো দিক চিনে পথ চলতে পারে।"

মজার বিষয় হল, আয়না ব্যবহার করে সূর্য সম্পর্কে যদি তাদেরকে ভুল বা অস্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়, তখন তারা ভুল পথে চলে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পিঁপড়ার এই দিক নির্ণয়ের পদ্ধতির যান্ত্রিক রূপ দিতে পেরেছেন তারা। যা রোবোটের প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

(www.blogkori.tk)

Powered by Blogger.